দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে লোহালক্করের স্তূপে, মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায়। পথে পথে বন্দুকের গর্জন, জলপাই রঙের ট্যাঙ্কের ছুটে চলা, অলিতে- গলিতে পোড়া মাংসের স্তূপ। অন্ধ ভবিষ্যতের শিশুর আর্তনাদ, বেয়নেটবিদ্ধ ভাইয়ের লাশ, সিঁদুর বেয়ে গড়িয়ে চলা জরায়ুর রক্ত — অবশেষে বিজয়; একটি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। ছুটে চলা, সংগ্রাম আর বিধ্বস্ততার ইতিহাস রয়েছে বাঙালির। আর্য আক্রমণ থেকে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি শাসক বাহিনি কর্তৃক আক্রমণ ও তাদের প্রতিহত করা বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রাম মুখর জীবনের পরিচায়ক।
দ্বি-জাতিতত্ত্বে ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তানের মধ্যবিত্ত শ্রেণির যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের প্রত্যাশা ছিল তা সাতচল্লিশ উত্তর অব্যবহিতকাল পরেই টানাপোড়েনে পর্যবসিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেখা দেয় রাষ্ট্রভাষা ও পাকিস্তানি মুসলিম জাতীয়তাবাদের বির্তক। ফলে সাতচল্লিশ উত্তর পূর্ববাংলায় প্রথমে সংগঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলন। পরে স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন। স্বাধীনতা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভেতর দিয়ে একাত্তরের ষোল ডিসেম্বর অভ্যূদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জাতীয় জীবনের এক দীপান্বিত অধ্যায়, অস্তিত্বের সূতিকাগার।
‘নারী’ আমার কাছে আবেগ, অনুভূতি, শক্তি, সৃষ্টি আর রক্তক্ষরণের পরিচায়ক। শহিদ জননী জাহানারা ইমামের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বাঙালি উপলব্ধি করেছে তাঁর রচিত একাত্তরের দিনগুলি বইটিতে। একজন নারীর মনের সাহস আর ত্যাগের দৃষ্টান্ত এ বই। নারীর চোখে একাত্তরের রক্তাভ চিত্র রয়েছে এতে। তারুণ্যে দীপ্ত রুমী ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে উদ্দীপ্ত হয়ে যুদ্ধে যাবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে। মুক্তি সংগ্রামের আহ্বান উপেক্ষা করতে পারেনি সে। সকল স্তরের মানুষ যোগ দিচ্ছে যুদ্ধে, রুমীও যুদ্ধে যেতে চায়। রুমীর সাথে কদিন ধরে খুব তর্ক-বির্তক চলছিলো জাহানারা ইমামের। কারণ রুমী অন্য সন্তানদের মতো মা-বাবাকে না জানিয়ে কিছু করতে পারে না। ছোটবেলা থেকেই তাদের এ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, যা কিছু করবে মা-বাবার মতের বিরুদ্ধে নয়। রুমী যুদ্ধে যেতে চায়, এজন্য সে তার মাকে অনেক যুক্তি দেখায়। শেষ পর্যন্ত রুমীর মা জাহানারা ইমাম দু’চোখ বন্ধ করে বললেন, ‘দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে। যা, তুই যুদ্ধে যা।’ (জাহানারা ইমাম, ২০১৩:৬৬)
৭ মার্চের ভাষণ শুধুমাত্র রুমীকেই বিপ্লবী করেনি, জাহানারা ইমামের মধ্যেও দেশপ্রেমের স্রোত বয়ে দিয়েছিলো। এ ভাষণ একজন নারীকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করেছিলো। জাহানারা ইমামের মতো কত নারীর হৃদয় ৭ মার্চের ভাষণে শক্তিশালী হয়ে নিজেকে বিসর্জন দিয়েছিলো তার সঠিক কোনো সমীক্ষা ইতিহাসে নেই। শেখ মুজিবুর রহমানকে টেলিভিশনে দেখার জন্য জাহানারা ইমাম উদগ্রীব হয়েছিলো। দেশনায়ক আর দেশের প্রতি এমন উদগ্রীবতা একজন নারী হয়েও সেসময়ে তিনি প্রকাশ করেছেন অবলীলায়। তাঁর ভাষায় :
শেখ মুজিবের গাড়িটা প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে বেরিয়ে আসছে। সাদা ধবধবে গাড়িতে পতপত করে উড়ছে কালো পতাকা। দেখে প্রাণটা যেন জুড়িয়ে গেল। প্রতিবাদের কালো পতাকা উঁচিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় গিয়েছেন শেখ মুজিব। এর আগে কোনদিনও পাকিস্তান সরকার বাঙালির প্রতিবাদের এই কালো পতাকা স্বীকার করে নেয়নি। এবার সেটাও সম্ভব হয়েছে। (জাহানারা ইমাম, ২০১৩:২৯)
১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ছিলো প্রতিরোধ দিবস। সেদিন জাহানারা ইমাম ও তাঁর বাড়ির সবাই মিলে ছাদে গিয়ে কালো পতাকার পাশে আরেকটা বাঁশে উড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশের নতুন পতাকা। এ পতাকা জাহানারা ইমামের চোখে নতুন স্বপ্ন এঁকে দিয়েছিলো। লেখিকার ভাষায় সেই অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে, ‘বুকের মধ্যে শিরশির করে ওঠল। আনন্দ, উত্তেজনা, প্রত্যাশা, ভয়, অজানা আতঙ্কÑ সবকিছু মিশে একাকার অনুভূতি।’ (জাহানারা ইমাম, ২০১৩:৩৫)
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াবহতা জাহানারা ইমামকে রক্তাক্ত করেছিলো। পুড়ে যাওয়া মানুষের চেহারা, বেয়নেটের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত লাশ তাঁকে ভেতরে- বাহিরে টুকরো টুকরো করে ফেলেছিলো। গাড়ির নেমপ্লেটে, রাস্তায়, বাড়ির সাইনবোর্ডে উর্দু ভাষার ব্যবহার জাহানারা ইমামকে বিদ্রোহী করে তুলেছিলো। তাঁর এ বিদ্রোহী সত্তা বাংলা ভাষার প্রতি অমর্যাদাকে মেনে নিতে পারেনি। উর্দু ভাষার ব্যবহারকে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বললেন, ‘শেষ পর্যন্ত বাড়ির সামনে, গাড়িতে নাম ও নম্বর-প্লেট উর্দুতে লিখতে হবে? এই বাংলাদেশে? আমাদেরকে?’ (জাহানারা ইমাম, ২০১৩:৫৫)
নৃশংস হত্যার উল্লাস আর নিষ্ঠুর মত্ততা প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়েছিলো জাহানারা ইমামকে। পুত্র রুমীকে নিষ্ঠুর এ মত্ততা থামানোর দায়িত্বে অর্পণ করলেন। তিনি জানতেন যুদ্ধ মানে না ফেরা, যুদ্ধ মানে ধ্বংস, যুদ্ধ মানে অনিশ্চয়তা। অনিশ্চয়তার কথা জেনেও তিনি সন্তানকে সমর্পিত করলেন দেশের সেবায়। মাতৃত্বকে ছাঁপিয়ে একজন নারীর কাছে দেশাত্মবোধ প্রধান হয়ে উঠলো। একজন মা পরিণত হলেন ‘‘দেশমাতা’’য়। পশ্চিম পাকিস্তানের অত্যাচারের নানা বিষয় জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি গ্রন্থে নির্বাচন করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ার জন্য, পাকিস্তানি বাহিনির ভয়াবহতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য বাংলার অনেক মা তার সন্তানকে, অনেক স্ত্রী তার স্বামীকে, অনেক বোন তার ভাইকে বিসর্জন দিয়েছেন। যোদ্ধা রুমীর জীবন স্বদেশের জন্য দিয়েছেন জাহানারা ইমাম। তাঁর সন্তান হয়ে ওঠেছে দেশের সন্তান। দেশের জন্য সন্তানকে নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দেওয়া এক মায়ের বিদীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার একাত্তরে শোনা গিয়েছিলো।
লোহার সাঁড়াশি দিয়ে কেউ যেন পাঁজরের সবগুলো হাড় চেপে ধরেছে। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে, চোখের বাইরে, নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দিতে হবে। জানতে চাওয়া চলবে নাÑ কোন পথে যাবে, কাদের সঙ্গে যাবে। রুমী এখন তার নিজের জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, তার একান্ত নিজস্ব ভুবন, সেখানে তার জন্ম-দাত্রীরও প্রবেশাধিকার নেই। (জাহানারা ইমাম, ২০১৩:৭৯)
সারাদেশে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। বুলেটের শব্দে কেঁপে কেঁপে ওঠা বাংলাদেশের সাথে জাহানারা ইমামের হৃদয়ও কেঁপে ওঠে। বারবার সন্তানের মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে। তবু ক্ষত ধরা হৃদয় নিয়ে তিনি অন্যদের প্রতি দায়িত্ব এড়াননি। নিজের মায়ের বাসায় বাজার করে দিয়ে আসা, অসুস্থ শ^শুরের যতœ নেওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও রসদ জোগানো সবকিছুই করেছেন দৃপ্ততায়। যোদ্ধা বন্ধুদের নিয়ে বাসায় যখন রুমী মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতো তখন জাহানারা ইমামও তাদের সাথে হয়ে ওঠতেন ‘যোদ্ধা মা’।
অস্ত্র আনার কাজে ছেলেকে সাহায্য করেছিলেন জাহানারা ইমাম। নিজে গাড়ি চালিয়ে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে অস্ত্র আনতে মনের সাহস হারাননি তিনি। একাত্তরের রণাঙ্গন মননে, মস্তিষ্কে তাঁকে প্রকৃত যোদ্ধায় পরিণত করেছিলো। অস্ত্র হাতে সম্মুখ সমরে না দাঁড়ালেও অস্ত্রের ছোঁয়া তাঁকে বিহŸল করেছিলো। তাঁর ভাষায়, ‘পাঁচটা স্টেনগান, একটা পিস্তল, দুটো হ্যান্ড গ্রেনেড। জীবনে এই প্রথম দেখলাম। আমি, শরীফ, জামী, মাসুম — চারজনের হুমড়ি খেযে বসে অস্ত্রগুলো হাত তুলে উল্টে পাল্টে দেখলাম, সেগুলোর গায়ে হাত বুলোলাম, হ্যান্ড গ্রেনেড দুটোও ছুঁয়ে দেখলাম।’ (জাহানারা ইমাম, ২০১৩:১৬৭)
২৯ আগস্টে রুমী, জামী, শরীফকে ধরে নিয়ে গেল ক্যাপ্টেন কাইয়ুম এয়ারপোর্টের উল্টোদিকে এম.পি.এ হোস্টেলে। সবাইকে নিয়ে গিয়ে সারারাত খুব মারধর করে মিলিটারিরা। ৩১ আগস্ট শরীফ, জামী ও মাসুম ফিরে আসলেও রুমী আর ফিরে আসেনি। ১ সেপ্টেম্বরের বর্ণনায় লেখিকা তুলে ধরেছেন হানাদার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনকে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে সেনারা যাকে যেভাবে পেয়েছে ধরে নিয়ে গিয়ে গেরিলা আক্রমণকারীদের সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। সেদিন শরীফ, রুমী, জামী, মাসুম, হাফিজসহ অসংখ্য মানুষকে ধরে এম.পি হোস্টেলের পেছনের বাড়িতে নিয়ে সেনারা এক বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়। জাহানারা ইমাম লিখেছেন :
সে কি মার! বুকে ঘুষি। পেটে লাথি, হঠাৎ করে আচমকা পেছন থেকে ঘাড়ে রদ্দা সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় চোখগুলো ঠিকরে বেরিয়ে গেল, রাইফেলের বাঁট দিয়ে বুকে পিঠে গুঁতো, বেত লাঠি, বেল্ট দিয়ে মুখে, মাথায়, পিঠে শরীরের সবখানে মার, উপুড় করে শুইয়ে বুটসুদ্ধ পায়ে-উঠে দাঁড়িয়ে মাড়ানো, বিশেষ করে কনুই, কবজি, হাঁটুর গিট গুলো- থেঁতলানো। (জাহানারা ইমাম, ২০১৩:১৮৭)
শরীফ ও জামীদের স্টেটমেন্ট দিয়ে ছেঁড়ে দিলেও কর্ণেল হেজাজী রুমীকে ছাড়ে না। যে সামরিক সরকার বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করেছে সে সরকারের কাছে ছেলের প্রাণ ভিক্ষা করতে রাজি ছিলেন না জাহানারা ইমাম। সন্তান আর দেশ তার কাছে এক সূত্রে গাঁথা ছিলো। দেশের জন্য তাঁর এ ত্যাগ মহত্ত্ব আর ভালোবাসার চ’ড়ান্ত রূপ। দেশের জন্য সন্তান বিসর্জিত বাংলা মায়ের প্রতিনিধি জাহানারা ইমাম। কোল জুড়ে, হৃদয় জুড়ে, ঘর জুড়ে সন্তান হারানোর হাহাকার। একাত্তরের একটি রাত একজন মাকে শহীদ জননী করেছিলো, মাতৃত্বের দাগগুলোকে করেছিলো প্রশমিত। একটা অন্ধকার ঘিরে রেখেছিলো আমৃত্যু :
কতোদিন দেখি নি ওই প্রিয় মুখ। এই কি ছিল বিধিলিপি? রুমী। রুমী। তুমি কি কেবলি ছবি হয়ে রইবে আমার জীবনে? তুমি গেরিলা হতে চেয়েছিলে, গেরিলা হয়েছিলে রাতের অন্ধকারে নিঃশব্দ, ক্ষিপ্র পদসঞ্চারে আঘাত হানতে শত্রুকে, নির্ভুল লক্ষ্যে। শত্রুও একদিন নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হেনে, রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে গেল তোমাকে।(জাহানারা ইমাম,২০১৩:২৪৪)
১৩ ডিসেম্বর শরীফ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে পি.জি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ওয়ার্ডের সামনে তোলা হয়েছে। বøাক আউটের কারণে হাসপাতালের মেইন সুইচ বন্ধ রাখা হয়। লাইফ সাপোর্ট দিতে না পারায় শরীফ মারা যায়। পরদিন সকালে শরীফের লাশ বাসায় আনা হয়। ১৬ ডিসেম্বর আকাশ যুদ্ধের বিরতি দেয়া হলো বিকেল তিনটা পর্যন্ত। ১৭ ডিসেম্বর ভোরে জাহানারা ইমামের বাসায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তোলা হলো। লেখিকার তখনকার অভিব্যক্তি, ‘সবাই কাঁদতে লাগলেন। আমি কাঁদতে পারলাম না।’(জাহানারা ইমাম, ২০১৩:২৬৯)
শোক জাহানারা ইমামকে বিহ্বল করে তুলেছিলো। দেশ স্বাধীন হলো। রক্তস্রোত স্বাধীনতার হাসিকে ¤্রয়িমান করে দিলো। প্রিয় বিয়োগে বাংলার মানুষ ভিতরে দুমড়ে-মুচড়ে গেলেও গলা ছেড়ে গাইলো, ‘ আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৯৫:১৩৬) সন্তান হারানো মা সন্তানের অস্তিত্ব খুঁজে পেলো বাংলার স্বাধীন মাটিতে। স্বামী, সন্তান হারানোর রক্তাক্ত বেদনা জাহানারা ইমাম রক্তাক্ত স্বাধীন বাংলাদেশকে দেখে ভুলে গিয়েছিলেন। বলিষ্ঠতা, দৃপ্ততা দিয়ে তিনি শহীদ জননী হয়ে দেশ গড়ার মন্ত্রে আবারো উজ্জীবিত হয়েছিলেন। রাঙ্গা প্রভাত গড়ার নেশায় রুমীকে স্মৃতিতে বাঁচিয়ে রাখলেন।






































