শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ : উচ্চতর গবেষণার রূপরেখা

সম্প্রতি রাফাত মিশুর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ : উচ্চতর গবেষণার রূপরেখা শীর্ষক বই। বাংলা বিভাগে অনুসৃত গবেষণার প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা দিতে সক্ষম এই বই। পাঠকদের জন্য বইটির ভূমিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। আজ প্রকাশিত হলো ভূমিকার দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তি

 

ছোটগল্প বিষয়ক পিএইচডি

বাংলা কথাসাহিত্যের মধ্যে ছোটগল্প নিয়ে গবেষণার পরিধি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলা ছোটগল্পের সামগ্রিক গবেষণার চেয়ে একক ছোটগল্পকারের সকল ছোটগল্প নিয়ে কাজের সংখ্যা বেশি। এর মধ্য দিয়ে একজন গল্পকারের শিল্পদৃষ্টি সম্পর্কে সার্বিক ধারণা পাওয়া যায়। একক ছোটগল্পকারের মধ্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে কাজ হয়েছে একাধিক : গীতা রাণী সরকার, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প : শৈলী ও বিষয় (১৯৯৩); সৈয়দ আজিজুল হক, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প : সমাজচেতনা ও জীবনের রূপায়ণ (১৯৯৫)। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প বিষয়ে সৈয়দ আাজিজুল হকের গবেষণা উত্তরসূরি গবেষকদের কাছে নির্ভরযোগ্য কাজ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

 

প্রাক্-সাতল্লিশ পর্বের বাংলা ছোটগল্প নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ : মোঃ সিরাজুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশের ছোটগল্প : জীবনজিজ্ঞাসা ও শৈলী-বিচার (২০০৫); মোঃ মিজানুর রহমান খান, বনফুলের ছোটগল্প : জীবনদৃষ্টি ও শিল্পরীতি (২০০৬); মিল্টন বিশ্বাস, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্পে নিম্ববর্গের মানুষ (২০০৭); নীলাঞ্জনা সরকার, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছোটগল্পে জীবনচেতনার রূপায়ণ (২০১৬)।

 

অন্যান্য শাখার মতো ছোটগল্প গবেষণায়ও সাতচল্লিশ-পরবর্তী বাংলাদেশের ছোটগল্প গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের ছোটগল্প নিয়ে সামগ্রিক বিবরণ ও মূল্যায়নধর্মী প্রথম কাজ : মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশের ছোটগল্প : জীবন ও সমাজ (১৯৯৫)। বাংলাদেশের ছোটগল্পের শিল্পরূপ নিয়ে সামগ্রিক কাজ : চঞ্চল কুমার বোস, বাংলাদেশের ছোটগল্পের শিল্পরূপ (১৯৪৭-১৯৯৬) (২০০৩)। এছাড়া আরও রয়েছে : সায়েদা বানু, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ছোটগল্পে বাস্তবতার স্বরূপ (১৯৭২-৮৮) (১৯৯৬); মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশের ছোটগল্পে মধ্যবিত্ত জীবনের রূপায়ণ (১৯৪০-৯০) (২০০১); শিরিন আক্তার সরকার, বাংলাদেশের ছোটগল্প : নারী-জীবনের রূপায়ণ (হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, সেলিনা হোসেন ও নাসরীন জাহান) (২০১৫)। পত্রিকায় প্রকাশিত ছোটগল্প নিয়ে গবেষণা : শিল্পী রানী ভদ্র, মাহে-নও পত্রিকায় প্রকাশিত ছোটগল্পে সমাজ বাস্তবতার রূপ (২০১০)। বাংলাদেশের একক ছোটগল্পকার নিয়ে কয়েকটি কাজ হয়েছে : শেখ মোঃ আমানুল্যাহ, আলাউদ্দিন আল আজাদের ছোটগল্প : বিষয়স্বাতন্ত্র্য ও শিল্পরূপ (২০১২); মোঃ আব্দুর রশীদ, শওকত ওসমানের ছোটগল্পে সমকাল, জীবনবৈচিত্র্য ও শিল্পরূপ (২০১৫); শিরীন আখ্তার জাহান, শওকত ওসমানের ছোটগল্পের বিষয় ও আঙ্গিক (২০২০)।

 

ছোটগল্প বিষয়ক এমফিল

এমফিল গবেষণার ক্ষেত্রেও ছোটগল্প সংখ্যা অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে এগিয়ে। তবে গবেষণার ধরন গতানুগতিক। প্রতিষ্ঠিত ছোটগল্পকারদের ছোটগল্প নিয়ে কাজ হয়েছে বেশি। কিছু ব্যতিক্রমও আছে : আব্দুল মতীন খান, বাংলা ছোটগল্পে মুসলিম গল্প লেখকদের অবদান (১৯৪৭ পর্যন্ত) (১৯৮৫)। একক ছোটগল্পকারদের নিয়ে কাজ হয়েছে, কোনো কোনো ছোটগল্পকারকে নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে : মোঃ আমীর হোসেন, প্রমথ চৌধুরীর গল্প — বিষয় ও শৈলী (২০০৯); মোঃ ফুয়াদ আলী, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্পে বিচার (২০১২)।

 

বিশ শতকের তিরিশের দশকের ছোটগল্পকাররা গবেষণার আওতাভুক্ত হয়েছেন বেশি : মোঃ জহিরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্রের ছোটগল্পে মধ্যবিত্তের জীবনসংকট (২০০৭); শাহিনা খাতুন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প : মধ্যবিত্ত জীবন-বাস্তবতা (২০১৬)। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প নিয়ে দুটি গবেষণা : মোঃ ফজলুর রহমান, তারাশঙ্করের ছোটগল্পে প্রান্তিক চরিত্রের স্বরূপ (২০১৩); সানজিদা হামিদ, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্পে লোকজীবনের রূপায়ণ (২০১৫)। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প নিয়ে দুটি গবেষণা : সন্তোষ কুমার ঢালী, বিভূতিভূষণের ছোটগল্প : বিষয় ও শিল্পরূপ (২০০৫); চৌধুরী মোঃ তাশরিক-ই-হাবিব, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্পে প্রান্তজনের জীবনচিত্র (২০১২)। বনফুলের ছোটগল্প নিয়ে দুটি গবেষণা : নীলাঞ্জনা লিপি, বনফুলের ছোটগল্পে প্রতিফলিত সমাজবাস্তবতার স্বরূপ (২০০৫); শামীমা আক্তার, বনফুলের ছোটগল্প (১৯৩৬-১৯৪৭) : বিষয় ও রচনারীতি (২০০৭)। সুবোধ ঘোষের ছোটগল্প নিয়ে দুটি গবেষণা : উৎপলেন্দু কীর্ত্তনীয়া, সুবোধ ঘোষের ছোটগল্পে প্রেমভাবনার স্বরূপ (২০০৩); মোমেনুর রসুল, সুবোধ ঘোষের ছোটগল্পে মানব মনস্তত্ত্ব (২০১৪)।

 

সাতচল্লিশ-পরবর্তী বাংলাদেশের ছোটগল্প নিয়েও অনেক কাজ হয়েছে : মোঃ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশের ছোটগল্পের বিষয় ও প্রকরণ (১৯৭১-১৯৯১) (২০০০); শেখ মোঃ আমানুল্লাহ, বাংলাদেশের ছোটগল্পে শ্রেণীদ্বন্দ্ব (১৯৪৭-১৯৭১) (২০০৬); মেহ্নাজ সাদ ফেরদৌস, বাংলাদেশের ছোটগল্পে গ্রামজীবন (১৯৭২-২০০০) (২০০৯); শরমিন নাহার চৌধুরী, বাংলাদেশের (১৯৭১-২০০০) মহিলা রচিত ছোটগল্পে নারীজীবনের স্বরূপ (২০১১)। বেশ কিছু কাজ হয়েছে বাংলাদেশের ছোটগল্পকারদের নিয়ে এককভাবে : শিল্পী খানম, আলাউদ্দিন আল আজাদের ছোটগল্পে জীবনবোধের রূপ-রূপান্তর (২০০৬); মোছাঃ শামিমা নাসরিন, আখতাজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্পে সমাজগতির রূপায়ণ (২০১৬); তাসলিমা নাসরিন, সরদার জয়েনউদ্দীনের গল্পে গ্রাম জীবনচিত্র (২০১৮); মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, হুমায়ূন আহমেদের ছোটগল্প : বিষয় ও শৈলী (২০১৮)।

 

প্রবন্ধ বিষয়ক পিএইচডি

পরিমাণের দিক থেকে প্রবন্ধসাহিত্য বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে কম। যদিও বাংলা সাহিত্যে প্রবন্ধসাহিত্যের আয়তন ছোট নয়। উনিশ শতক থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত বিচিত্র বিষয়ে প্রবন্ধ রচিত হয়েছে। সেইসব প্রবন্ধ থেকে সময়ের বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তচর্চার অভিমুখ বুঝে নেওয়া যায়। প্রবন্ধসাহিত্যের ওপর গবেষণা করার অনেক ক্ষেত্র এখনও গবেষকদের স্পর্শ পায়নি। প্রবন্ধ বিষয়ে যে কয়েকটি গবেষণা হয়েছে তার ক্ষেত্রপরিধি একাত্তর-পূর্ববর্তী। স্বাধীন বাংলাদেশে রচিত প্রবন্ধসমূহ বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক চিন্তাচর্চার স্মারক। বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করতে চলেছে।

 

এই সময়পর্বে সংঘটিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা ও কর্মপ্রবাহ প্রবন্ধসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য বিষয়। সাহিত্য বিষয়ে বিচিত্র মতবাদেরও প্রকাশ লক্ষ করা যায় এ-সময়ের প্রবন্ধসমূহে। তাই এই কালপর্বের প্রবন্ধসাহিত্য উচ্চতর গবেষণার অভিনিবেশিত ক্ষেত্র হতে পারে। প্রবন্ধ বিষয়ে গবেষণাকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য : মোরশেদ শফিউল হাসান, পূর্ব বাঙলার প্রবন্ধ-সাহিত্যে সমাজ ও সংস্কৃতি চিন্তা (১৯৪৭-১৯৭০) (২০০৫)। এই গবেষণার পরিসর অনেক বিস্তৃত ও তথ্যবহুল। প্রবন্ধ বিষয়ে আরও একটি কাজ : এ. কে. এম.
মাহবুবুল হক, আবুল ফজল, আবদুল হক, আহমদ শরীফ ও আহমদ ছফার প্রবন্ধ : সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যভাবনা (২০১৬)।

 

প্রবন্ধ বিষয়ক এমফিল

এমফিলেও প্রবন্ধ বিষয়ে গবেষকদের আগ্রহ কম। বড় পরিসরে কাজ তেমন হয়নি। উল্লেখযোগ্য কিছু গবেষণা : রঘুনাথ ভট্টাচার্য, বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য : ১৯২০-১৯৩০ খ্রীস্টাব্দ (১৯৯৮); সুধীর কুমার সরকার, রণেশ দাশগুপ্তের প্রবন্ধে সাহিত্য-শিল্পভাবনার স্বরূপ (২০০৬); মোসাঃ ইয়াসমিন নাহার, আবদুল হকের প্রবন্ধ : সমাজ-সংস্কৃতি ও সাহিত্যচিন্তার স্বরূপ (২০১২)।

 

লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক পিএইচডি

বাংলা লোকসাহিত্য সম্পূর্ণত বাংলা সাহিত্যের নিজস্ব সম্পদ। অন্যান্য সাহিত্য-মাধ্যমে বাইরের আদান-প্রদান বা সংশ্লেষণের বিষয়টি প্রত্যক্ষভাবে থাকলেও, লোকসাহিত্য তা থেকে অনেকটা দূরে। লোকসাহিত্য নিয়ে শুরু থেকেই বাংলা বিভাগের গবেষকদের আগ্রহ ছিল। এ বিষয়ে প্রথম ও উল্লেখযোগ্য কাজ : আশুতোষ ভট্টাচার্য, বাংলার লোকসাহিত্য (১৯৫৯)। পরবর্তীকালে অভিসন্দর্ভের চেয়েও বর্ধিত আকারে গ্রন্থাকারে ছয় খণ্ডে গবেষণাকর্মটি প্রকাশিত হয় । এটি বাংলা লোকসাহিত্য গবেষণার আকরগ্রন্থ হিসেবেও পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। বাংলা বিভাগে লোকসাহিত্য নিয়ে নির্দিষ্ট বিরতিতে গবেষণা অব্যহত থেকেছে।

 

লোকসাহিত্য গবেষণার একটি বড় অংশ মাঠ পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। বিশেষত অঞ্চলভিত্তিক লোকসাহিত্য গবেষণায় এর সংশ্লিষ্টতা লক্ষ করা যায়। পাকিস্তানপর্বে মুসলিম লোকসংস্কৃতির অনুসন্ধান গবেষণার একটি প্রবণতা ছিল। এরূপ একটি কাজ : এ. টি. এম. গোলাম সাকলায়েন, বাংলা মর্সীয়া সাহিত্য (১৯৬২)। লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে বড় পরিসরের একটি গবেষণা : ওয়াকিল আহমদ, বাংলা লোকসাহিত্যে লোকসংস্কৃতির উপাদান (১৯৭২)। বাউলতত্ত্ব নিয়ে দুটি কাজ হয়েছে : আবু সাঈদ মোহাম্মদ আনোয়ারুল করিম, বাউল : একটি লৌকিক অধ্যাত্মবাদী সাধনা (১৯৭৭); এস. এম. লুৎফর রহমান, বাউল সাধনা ও লালন শাহ (১৯৭৯)। লোকছড়া থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলা ছড়া — এমন বড় আয়তনের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা : সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, বাংলা ছড়ায় বাঙালী সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতিফলন (১৯৪৭ খৃঃ পর্যন্ত) (১৯৮৫)। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো ছড়া-সাহিত্যের তাত্ত্বিক দিক উপস্থাপিত হয়েছে। বাংলা ছড়ার মধ্যে বাঙালির সমাজজীবন, পরিবারজীবন, ধর্মজীবন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনের বহুবিধ প্রান্তকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই গবেষণায়।

 

প্রাচীন লোকসাহিত্য নিয়ে কাজ : আলি নওয়াজ, খনার বচন ও বাঙালী সংস্কৃতি (১৯৮৬)। কেবল সাহিত্যগুণ বিচার নয়, অধিকাংশ লোকসাহিত্য-গবেষকের প্রবণতা ছিল বাঙালি জীবন, সমাজ ও সংস্কৃতির অনুসন্ধান : চৌধুরী আবদুল মোমেন খান, বাঙালী লোকজীবনে ও বাংলা সাহিত্যে লৌকিক আচার (জন্ম ও বিবাহ) (১৯৮৭); সৈয়দ মোহাম্মদ সরওয়ার ই আলম, বাংলা লোকসঙ্গীতে জীবন বোধ ও সমাজচেতনা (২০১০)। বাংলাদেশের লোক উৎসব নিয়ে একটি কাজ আছে : খালেদ মাসুকে রসুল, বাংলাদেশের লৌকিক উৎসব (১৯৮৬)।

 

লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির গবেষণায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ে স্বতন্ত্র কিছু কাজ হয়েছে : শেখ গাউস মিয়া, খুলনার লোকসাহিত্যে সমাজ সংস্কৃতি ও ইতিহাসের উপাদান (১৯৮৯); মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকসাহিত্যে সমাজ সংস্কৃতি ও ইতিহাসের উপাদান (২০০০); মোঃ নাজমুল হক, উত্তরবঙ্গের লোকসাহিত্যে ও নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক সমীক্ষা (২০০৩); মোঃ বেল্লাল হোসেন, পূর্ব বগুড়ার লোকসাহিত্যের স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য (২০০৫); মোঃ মিজানুর রহমান, বৃহত্তর বরিশালের লোকসংস্কৃতি (২০১০)। বিশেষ জনগোষ্ঠীর লোকসংস্কৃতি বিষয়ক কাজ : বিমান চন্দ্র বড়ুয়া, বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর লোকসংস্কৃতির স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য (২০০৮); মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন, বাংলাদেশের কোচ জনগোষ্ঠীর সমাজ ও সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য (২০১০)। একক লোককবি বা লোকসাহিত্যিক নিয়ে দুটি কাজ হয়েছে : খন্দকার রিয়াজুল হক, মরমী কবি পাঞ্জু শাহ : জীবন ও কাব্য (১৯৮৭); মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, লোককবি রাধারমণ : জীবনদর্শন ও কবিতা (২০১৫)।

 

লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক এমফিল

লোকসাহিত্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এমফিল গবেষণা : সৈয়দ আজিজুল হক, ময়মনসিংহের গীতিকা : জীবনধর্ম ও কাব্যমূল্য (১৯৮৯)। ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পূর্ণত বাংলাদেশের সাহিত্য। দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে বাংলা সাহিত্যের প্রতি তাঁর বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। সৈয়দ আজিজুল হক ময়মনসিংহ গীতিকার নন্দনতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করে স্বসাহিত্যের প্রতি সনিষ্ঠ গবেষণার পরিচয় দিয়েছেন। লোকগীতিকা নিয়ে আরও দুটি গবেষণা : মোঃ শাহনেওয়াজ রিপন, বাংলা লোকগীতিকায় প্রতীক ও চিত্রকল্পের ব্যবহার (২০০৫); কামরুন নাহার, বাংলা লোকগীতিকায় নারী (২০১০)।

 

লোকসাহিত্যের একক শাখা নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে : মোঃ ফয়েজ আলম, বাংলা লোককাহিনীতে বাঙালি সংস্কৃতি (২০০২); আলিম আল রাজী, বাংলা লোকনাট্য পালাগান : প্রকৃতি ও প্রয়োগ (২০০৩); মোছাঃ রাশনা শারমীন, বাংলা রূপকথা-উপকথায় মিথ-এর প্রভাব (২০১০)। একক লোককবির সামগ্রিক মূল্যায়নধর্মী কাজ : গোপিকা রঞ্জন চক্রবর্ত্তী, ভবাপাগ্লার জীবন ও গান (১৯৯২)। অঞ্চলভিত্তিক লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণা : সৈয়দা মমতাজ বেগম, বৃহত্তর ফরিদপুরের লোকসাহিত্য (২০০২); তৌহিদা জেসমিন শম্পা, কিশোরগঞ্জের লোকসাহিত্য (২০০৫)।

প্রাচীন যুগের বাংলা সাহিত্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র এখনও বাংলা বিভাগের উচ্চতর গবেষণার আওতাভুক্ত হয়নি।

প্রাচীন যুগ প্রাচীন যুগ নিয়ে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো পিএইচডি বা এমফিল গবেষণা হয়নি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণাক্ষেত্র এখনও গবেষকদের আগ্রহভুক্ত হয়নি বা নজরে আসেনি। এই ক্ষেত্রে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বা তত্ত্ব-মতবাদের ভিত্তিতে বা পুথি পাঠ-আবিষ্কার-সম্পাদনা ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণার বড় সুযোগ রয়েছে।

 

মধ্যযুগ ও সম্পাদনা বিষয়ক পিএইচডি

মধ্যযুগের সাহিত্য বাংলা সাহিত্যের গবেষণার একটি বড় ক্ষেত্র হতে পারত। এখনও অনেক পুথি অসম্পাদিত থেকে গেছে। মধ্যযুগের গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে ব্যক্তির সাহিত্যকৃতি, মঙ্গলকাব্যের বিভিন্ন দিকের উন্মোচন এবং পুথি-সম্পাদনার বিভিন্ন বিষয়-আশয়। কোনো কোনো শিরোনামে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্যযুগকে দেখার চেষ্টার ছাপ আছে। তবে আধুনিক তত্ত্ব ও মতবাদের ভিত্তিতে সেই যুগের সাহিত্য-গবেষণা এখন পর্যন্ত হয়নি। মধ্যযুগের সাহিত্য নিয়ে গবেষণা ও পুথি-সম্পাদনার কাজে যে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রণোদনা প্রয়োজন, তা এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত।

 

মধ্যযুগের অনেক কবি ও কাব্যকৃতি ছিল অনাবিষ্কৃত। তাই প্রথম প্রজন্মের গবেষকদের প্রথমত সাহিত্যকর্মগুলো আবিষ্কার ও সম্পাদনা করতে হয়েছে; এরপর বিশ্লেষণ। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্ম : আহমদ শরীফ, সৈয়দ সুলতান : তাঁর কর্ম ও সময় (১৯৬৭)। এ-তালিকায় আরও রয়েছে : রাজিয়া সুলতানা, আবদুল হাকিম : কবি ও কাব্য (১৯৮৫); মুহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, শ্রীরায় বিনোদ : কবি কাব্য (১৯৮৮); মো. মুস্তাফিজুর রহমান, শ্রীরায় বিনোদের পদ্মাপুরাণ : প্রসঙ্গ নাটকের উপাদান (পাশ্চাত্য মত-অনুযায়ী) (২০০৪); রিজিয়া সুলতানা, ‘হায়দার আহমদ’ ও ‘এলমাজ বাদশাহ’ (২০০৪)।

 

মধ্যযুগের সাহিত্যগবেষণায় বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মঙ্গলকাব্য বিষয়ে গবেষণা। এসব গবেষণায় সাহিত্যবৈশিষ্ট্যের প্রথাগত মূল্যায়ন করা হয়েছে; আবার কিছু কাজে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়নের চেষ্টা আছে : জয়া সেনগুপ্ত, মনসামঙ্গল কাব্যের পটভূমিকা ও নারী (১৯৮৬); মোঃ আবদুল হান্নান, মনসামঙ্গল কাব্যে মতাদর্শগত বিরোধ ও শ্রেণীদ্বন্দ্ব (১৯৯০); গোপিকারঞ্জন চক্রবর্তী, বাংলা মঙ্গলকাব্যে শ্রমজীবী মানুষ (১৯৯৬); বাসুদেব রায়, চণ্ডীমঙ্গল ও অন্নদামঙ্গল কাব্যে দেব-দেবীর স্বরূপ (২০০৩); মোছাঃ শামীম আরা, বাংলা মঙ্গলকাব্যে অন্ত্যজ জীবনের রূপায়ণ (২০১৩)। সুফিদর্শন নিয়ে একটিমাত্র কাজ : ফকির আবদুর রশীদ, বাংলায় সুফী দর্শনের ভূমিকা ও স্বরূপ (১৯৯৭)। বাংলা অঞ্চলে সুফিদর্শন, সহজিয়া মতবাদের প্রভাব এখন স্বীকৃত বিষয়। স্বয়ং মতবাদ নিয়ে বা এইসব মতবাদমূলক সাহিত্য-বিষয়ে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করার সুযোগ আছে। বাংলা সাহিত্যের সব যগেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই মতবাদগুলোর প্রভাব লক্ষ করা যায়।

 

সাহিত্য বৈশিষ্ট্য নিরূপণমূলক কাজ : নাসিমা চৌধুরী, মধ্যযুগের বাংলা রোমান্স কাব্যে অলংকারের ব্যবহার (২০০৭)। মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পুথি-সম্পাদনা। আবিষ্কৃত পুথির সংখ্যার সম্পাদনা ভিত্তিক বিচারে গবেষণার পরিমাণ কম : সেলিনা জেসমিন, কাজী দৌলত-আলাওল বিরচিত ‘সতীময়নালোর-চন্দ্রানী’ সম্পাদনা ও মূল্যায়ন (২০০৩); মোঃ হাবিবুর রহমান খান, প্রাচীন ও মধ্যযুগের (৬৫০-১৮০০ খ্রি:) বাংলা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার ইতিহাস এবং সম্পাদনার প্রকরণ-পদ্ধতি (২০১২); মোস্তফা আহাদ তালুকদার, কবি আসাদ আলী চৌধুরী প্রণীত ‘দ্বিজনন্দিনী’ : সম্পাদনা ও আলোচনা (২০১৯)।

 

মধ্যযুগ ও সম্পাদনা বিষয়ক এমফিল

মঙ্গলকাব্য নিয়ে দুটি এমফিল গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে : বাসুদেব রায়, মনসামঙ্গল কাব্যে দেব-দেবীর স্বরূপ (১৯৯৮); মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মঙ্গলকাব্যে বাঙালির আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের রূপায়ণ (২০১৫)। মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ কবি বা কাব্যের মূল্যায়নধর্মী কাজ হয়েছে : মো: আব্দুল গফুর, ভারতচন্দ্রের কাব্যে অলঙ্কার (২০০১); ভারতী রানী হালদার, ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের সমাজ ও সংস্কৃতি (২০০৭)। বৈষ্ণবসাহিত্য নিয়ে একটিমাত্র গবেষণাকর্ম সম্পাদিত হয়েছে : অলোক কুমার চক্রবর্তী, বৈষ্ণব পদাবলির বিবর্তনধারা এবং বাংলাদেশে কীর্তনচর্চা (২০১৮)। মধ্যযুগের দোভাষী পুথিসাহিত্য নিয়ে দুটি কাজ হয়েছে : জিনিয়া আবেদীন,
দোভাষী পুঁথি সাহিত্যে নারী (২০০৭); এস এম মেহেদী হাসান, দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের প্রণয়োপাখ্যান ধারা (২০১৪)।

 

এমফিল গবেষণায় সম্পাদনা বিষয়ে বেশ কিছু কাজ আছে : মোস্তফা আহাদ তালুকদার, বগুড়া জেলায় প্রাপ্ত পুরোনো বাংলা দলিলপত্র : বিবরণ ও বিশ্লেষণ (২০০৭); মোঃ হাবিবুর রহমান খান, কবি হাফেজদ্দীন রচিত ‘বসন্তের দুঃখ’ : সম্পাদনা ও মূল্যায়ন (২০০৭); শাহনাজ পারভীন, কুমিল্লা জেলা-মহাফেজখানায় রক্ষিত পুরোনো বাংলা দলিলপত্র : একটি পর্যালোচনা (২০০৭); মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ঢাকার নবাববাড়ি সংগ্রহের পুরোনো বাংলা দলিলপত্র : বিবরণ ও বিশ্লেষণ (২০১১); উম্মে হাবিবা, ঢাকা জেলা-মহাফেজখানায় রক্ষিত পুরোনো বাংলা দলিলপত্র : একটি পর্যালোচনা (২০১৪); জাকিয়া সুলতানা, বরিশাল জেলা-মহাফেজ খানায় রক্ষিত পুরোনো বাংলা দলিলপত্র : একটি পর্যালোচনা (২০১৪)। এই গবেষণার ধরন বা বিষয়বিন্যাসের কাঠামো প্রায় একই।

 

উনিশ শতক বিষয়ক পিএইচডি ও এমফিল

উনিশ শতক বাংলা সাহিত্য ও বাঙালির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ শতক। এই কালপর্বের অনেক উপাদান গবেষণার আওতাভুক্ত। উনিশ শতকে সৃজিত বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা, বাংলা গদ্যের বিচিত্র গতিমুখ নির্দেশ ও অনুসন্ধান এ-বিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্র। কবিতাউপন্যাস-নাটক ইত্যাদি বিষয়ক গবেষণার কথা পূর্বোক্ত আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরেও উনিশ শতক নিয়ে আরও কিছু গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। উনিশ শতকের অন্যতম মনীষী বিদ্যাসাগর নিয়ে গবেষণা : সফিউদ্দিন আহমদ, ঈশ^রচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভাষাচিন্তা ও চর্চা (১৯৯৩)। এরূপ একক মনীষী নিয়ে আরও দুটি কাজ : মোঃ সাইফুল ইসলাম, উনিশ শতকের চিন্তাধারায় অক্ষয়কুমার দত্তের অবদান (২০০৯); মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলা ভাষায় শিক্ষাচিন্তার ক্রমবিকাশ : অক্ষয়কুমার দত্ত থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২০১৮)। উনিশ শতক নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ কাজ : মো. গোলাম আজম, উপনিবেশ আমলে লেখ্য বাংলার রূপ ও রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষাচিন্তা (২০১৪)। এই গবেষণা বিদ্বৎসমাজে নতুন চিন্তার উদ্রেক করেছে।

 

উনিশ শতক নিয়ে এমফিল গবেষণা : গৌতম সরকার, উনিশ শতকের বাংলা উপন্যাসে বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় (২০১৫)।

 

রবীন্দ্রসাহিত্য বিষয়ক পিএইচডি

একাত্তর পরবর্তীকালে রবীন্দ্রসাহিত্য বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে বাংলা বিভাগ থেকে প্রথম ও কার্যকর গবেষণাকর্ম : সৈয়দ আকরম হোসেন, রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস : চেতনালোক ও শিল্পরূপ (১৯৭৯)। এই গবেষণা রবীন্দ্রসাহিত্যগবেষণায় পথিকৃতের স্বীকৃতি পেয়েছে। রবীন্দ্র-উপন্যাস মূল্যায়নের উপলক্ষে আধুনিক ও নিরীক্ষাধর্মী দৃষ্টিকোণ থেকে উন্মোচিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের মানস ও ঐতিহ্যলোক, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যসৃজনের পূর্বাপর অনেক অজানিত ইতিবৃত্ত। এই গবেষণায় উপন্যাস বিবেচনার আধুনিক নন্দনতাত্ত্বিক পদ্ধতির প্রয়োগ ও বিশ্লেষণের অভিনবত্ব উত্তরসূরি গবেষকদের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের নাটক ও উপন্যাস নিয়ে একাধিক কাজ হয়েছে; হয়েছে কবিতা নিয়েও।

 

এখন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমণ-পত্র-আত্মকথন কিংবা গান নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে কোনো পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন হয়নি। ভাষার প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাকে বাংলা ভাষার উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ার বড় পটভূমিতে স্থাপন করে গবেষণা করেছেন মো. গোলাম আজম : উপনিবেশ আমলে লেখ্য বাংলার রূপ ও রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষাচিন্তা (২০১৪)। এই গবেষণায় ভাষাচিন্তায় রবীন্দ্রনাথের বিঔপনিবেশিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। রবীন্দ্রনাটক নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ : মঞ্জুশ্রী চৌধুরী, রবীন্দ্রনাথের রূপক সাংকেতিক নাটক (১৯৭৯)। এছাড়া বাকি কাজগুলো গতানুগতিক : মোঃ সাইফুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথের নাটক : চেতনালোক ও শিল্পরূপ (২০০২); মোছাঃ মাহফুজা সুলতানা হিলালী, রবীন্দ্র-নাট্যে নারী (২০১৪); অরূপ কুমার বড়ুয়া, রবীন্দ্রনাটকে রাজনীতি (২০১৭)। রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে আরও কিছু কাজ : মোঃ সুলতান আলী, রবীন্দ্রকাব্যে জীবনদর্শন ও মানবতাবোধ (১৯৯২); শাহীদা, রবীন্দ্র উপন্যাসে নারীর অধিকার চেতনা (১৯৯৯); মোঃ জমির হোসেন, রবীন্দ্রনাথের রাজনীতি ও সংস্কৃতি (২০১৫)।

 

রবীন্দ্রসাহিত্য বিষয়ক এমফিল

এমফিল গবেষণার বিষয় নির্বাচনে রবীন্দ্রসাহিত্যের নাটক ও ছোটগল্পের প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। রবীন্দ্রনাটক বিষয়ক গবেষণা : অরূপ কুমার বড়ুয়া, রবীন্দ্রনাথের রূপক সাংকেতিক নাটকে রাজনীতি (২০০২); মোঃ জমির হোসেন, রবীন্দ্রনাটকে ঐতিহ্যচেতনা ও সমাজভাবনা (২০০৮)। রবীন্দ্রছোটগল্প নিয়ে গবেষণা : রীতা রানী সাহা, রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে নর-নারী সম্পর্ক (২০০৩); নাহিদা আক্তার শিলা, রবীন্দ্র ছোটগল্পে রূপায়িত দাম্পত্য জীবনচিত্র (২০১১); নাদিয়া ইসরাত, রবীন্দ্র-ছোটগল্পে নারীর অবস্থান (২০১৯)। রবীন্দ্রকবিতা নিয়ে একমাত্র এমফিল গবেষণা : মোঃ এজাজ হোসেন খান, রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি, গীতিমাল্য ও গীতালি কাব্যে রূপকপ্রতীকের ব্যবহার (২০০৮)। রবীন্দ্রনাথ বিষয়ে ব্যতিক্রমধর্মী গবেষণা : মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে কল্লোলগোষ্ঠী ও আধুনিকতাবাদী সাহিত্য আন্দোলন (২০১৫)। রবীন্দ্রসাহিত্যে স্বতন্ত্রভাবে বাংলাদেশকে অনুসন্ধান করা হয়েছে এই গবেষণায় : চন্দ্রা বসু, ‘ছিন্নপত্রাবলী’ রচনাকালের রবীন্দ্র কাব্য ও ছোটগল্প : বাংলাদেশের মানুষ ও ভূ-প্রকৃতির প্রভাব (২০১৭)।

 

নজরুল-সাহিত্য বিষয়ক পিএইচডি

সংখ্যার বিচারে একজন ব্যক্তিকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর সাহিত্য নিয়ে। গবেষণায় কিছু ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আছে। আবার কোনো কোনোটি একেবারে গতানুগতিক। নজরুলসৃজনের অনেকগুলো প্রান্ত স্পর্শিত হয়েছে আলোচ্য গবেষণাকর্মসমূহের মধ্য দিয়ে। নজরুলের জীবন-জীবনবোধ-সাহিত্যচিন্তা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। সেই অর্থে নজরুলের কথাসাহিত্য, প্রবন্ধসাহিত্য, নাটক, পত্রসাহিত্য এখনও আলাদাভাবে গবেষণার আওতাভুক্ত হয়নি। নজরুলসাহিত্য বিষয়ে প্রথম গবেষণা : মোঃ রফিকুল ইসলাম, কাজী নজরুল ইসলাম : জীবন ও সাহিত্য (১৯৭৭)। এই গবেষণায় নজরুল সামগ্রিকভাবে মূল্যায়িত হয়েছেন। পরবর্তী নজরুল-গবেষকরা এই গবেষণা থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।

 

নজরুলের সমগ্র সাহিত্যের ওপর প্রবণতা ও চিন্তাধারা ভিত্তিক বেশ কিছু কাজ হয়েছে : আবু হেনা এম. আবদুল আউয়াল হাওলাদার, নজরুলের সাহিত্যচিন্তা ও তাঁর সাহিত্যে তার প্রতিফলন (২০০২); বেগম তাহমিনা আশরাফ, নজরুল সাহিত্যে তৎকালীন বিশ্ব (২০০৬); পারভীন আক্তার জেমী, নজরুল সাহিত্যে বিপ্লবী চেতনা (২০০৮); মোঃ তাহা ইয়াসিন, নজরুলের জীবনবোধ ও চিন্তাধারা (২০০৯); মোহাম্মদ ফজলুল হক, নজরুল-সাহিত্যে ইতিহাস-চেতনা (২০০৯); বি. এম. গুলশান আরা, বিশ শতকের প্রথম চার দশকে বাংলা কবিতায় নারী এবং কাজী নজরুল ইসলাম (২০১০); গাজী মোঃ রায়হান, নজরুল সাহিত্যে মানব স্বীকৃতির স্বরূপ (২০১১)। নজরুল সংগীত নিয়ে স্বতন্ত্র কিছু কাজ হয়েছে : করুণাময় গোস্বামী, বাংলা কাব্যগীতির ধারায় কাজী নজরুল ইসলামের স্থান (১৯৮৮); মহসিনা আক্তার খানম, নজরুল-সঙ্গীতে রাগের ব্যবহার (২০১০); সৈয়দা সারাহ্ শিমুল, নজরুল সঙ্গীতে সমাজসচেতনতা (২০১৩); সন্তোষ কুমার ঢালী, নজরুলের কবিতা ও গানে লোকজ উপাদান (২০১৩)। নজরুলের শিশুসাহিত্য নিয়ে একটিমাত্র কাজ : সৈয়দা মোতাহেরা বানু, বিশ শতকের প্রথম চার দশকের বাংলা শিশু সাহিত্যের পরিপ্রেক্ষিতে কাজী নজরুল ইসলামের শিশু সাহিত্য (২০০৬)।

 

নজরুল-সাহিত্য বিষয়ক এমফিল

এমফিল গবেষণাতেও নজরুলসাহিত্যের সার্বিক বা চেতনাগত মূল্যায়নের প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়। তবে শিরোনামে বৈভব থাকলেও গবেষণাকর্ম বড় আয়তনে হয়নি : আবু হেনা এম. আবদুল আউয়াল হাওলাদার, নজরুলের রাষ্ট্রচিন্তা ও রাজনীতি (১৯৯৫); গাজী মোঃ রায়হান, নজরুল সাহিত্যে বিপ্লবের স্বরূপ (২০০৩); বি. এম. গুলশান আরা, নজরুল সাহিত্যে নারী (২০০৫); সৈয়দা মোতাহেরা বানু, নজরুলের শিশু সাহিত্য (১৯৯৮); মারজিয়া সরকার, নজরুল সাহিত্য সমালোচনার ধারা (২০০২)। নজরুলের কথাসাহিত্য নিয়ে গবেষণা : বেগম তাহমিনা আশরাফ, নজরুলের কথাসাহিত্যে সমকালীন সমাজ (২০০১); মঞ্জুরা আক্তার, নজরুল ইসলামের ছোট গল্প (২০০৬); নাজমুন নাহার, নজরুলের কথাসাহিত্যে নারীচরিত্র (২০১৫)। নজরুলের কবিতা নিয়ে গবেষণা : আছমা আলম, নজরুলের কবিতায় বাক্প্রতিমা (২০০৩); আমেনা খাতুন, নজরুল-কাব্যে শব্দের নামধাতু-রূপে ব্যবহার (২০১৭)। নজরুল সংগীত বিষয়ে একটি গবেষণা : মহসিনা আক্তার খানম, নজরুল সঙ্গীতে সুর বৈশিষ্ট্য (২০০৫)।

 

বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা, রাজনীতি ও সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ক পিএইচডি ও এমফিল

বাংলা বিভাগে উচ্চতর গবেষণার সঙ্গে বিভিন্ন কালপর্বে তৎকালীন রাজনীতির প্রভাব ও অভিঘাত বিশেষভাবে সম্পর্কযুক্ত। পাকিস্তানপর্বে আইয়ুবি কালো দশকেই মূলত ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে বাংলা বিভাগে উচ্চতর গবেষণার যাত্রা শুরু হয়। একদিকে পাকিস্তানায়নের চাপ, অন্যদিকে স্বজাতি-স্বসাহিত্য-সংস্কৃতির উৎস-অনুসন্ধানের প্রেরণা — এ-দুইয়ের প্রভাব গবেষণার বিষয়নির্বাচন ও প্রবণতা নির্ধারণে ভূমিকা পালন করেছে। অ্যাকাডেমিক পরিধির বাইরে পাকিস্তানি মুসলিমায়নের প্রক্ষেপ দেখা যায় বিভিন্ন গবেষণাকর্মে। কিন্তু বাংলা বিভাগের উচ্চতর গবেষণায় দেখা যায় উক্ত বিষয়ে সতর্ক অবস্থান। বরং বাংলা সাহিত্যের কিছু অনালোচিত বিষয়ে আলো ফেলেছেন উক্ত সময়ের গবেষকগণ।

 

পরবর্তীকালে ওই কালপর্বের গবেষণাকর্মগুলো সমাদৃত হয়েছে; একই সঙ্গে কালের সাক্ষী হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকর্ম : এ. টি. এম. আনিসুজ্জামান, ইংরেজ আমলের বাংলা সাহিত্যে বাংগালী মুসলমানের চিন্তাধারা (১৯৬২)। ইতিহাস ও সাহিত্য দ্বিবিধ দিক থেকে এই গবেষণা মূল্যবান। ১৯৫৭ থেকে ১৯১৮ সময়পরিসরে বাঙালি মুসলমানের দেশ-কালের পরিপ্রেক্ষিত অনুসন্ধানে আনিসুজ্জামান প্রাচ্য ও প্রতীচ্য উভয় ধারার চিন্তকদের রচনা, তত্ত্ব ও উপাত্তের যুক্তিনিষ্ঠ উপস্থাপন ঘটিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই কালপর্বে রচিত সৃজনশীল, মননশীল ও তত্ত্বমূলক সাহিত্যের মধ্য দিয়ে বাঙালি মুসলমানের অতীত এবং আধুনিকতার দিকে যাত্রার রূপরেখা চিহ্নিত করেছেন। এই গবেষণাকর্ম বাংলা বিভাগ থেকে উৎকৃষ্ট উচ্চতর গবেষণার পথরেখা নির্মাণ করেছে।

 

মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, আধুনিক বাংলা কাব্যে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক (১৮৫৭১৯২০) (১৯৬৯) — এই গবেষণার প্রবণতা থেকে পাকিস্তানপর্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে বাংলা বিভাগের অবস্থান বুঝে নেওয়া যায়। একাত্তর-পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানকাল বা পাকিস্তানপূর্ব কালের রাজনীতি, মুসলিম জীবন-সংস্কৃতির অনুধ্যানে বাংলা বিভাগের গবেষকদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তার প্রকাশ লক্ষ করা যায় : মোঃ সাঈদ-উর রহমান, পূর্ব বাঙলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও সমকালীন কবিতা (১৯৭৯); রেজোয়ান হোসেন সিদ্দিকী, পূর্ববাংলার সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন (১৯৪৭৭১) (১৯৯৫); মুহম্মদ ইসরাইল খান, বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি ও সমাজের অগ্রগতিতে সাহিত্য পত্রিকার ভূমিকা (১৯৪৭-১৯৭১) (১৯৯৫); নিতাই কান্তি দাস, বাংলা সাহিত্যে পাকিস্তান আন্দোলনের প্রভাব (১৯৪০-১৯৭১) (১৯৯৬)।

 

তবে বাংলাদেশ-পর্বের বিভিন্ন শাসনামলে সম্পাদিত গবেষণাকর্মের বিষয়নির্বাচন ও বিশ্লেষণপ্রবণতার মধ্যে তৎকালের প্রভাব অনুধাবন করা যায়। বাঙালি মুসলমানদের বুদ্ধিবৃত্তিক অভিযাত্রা নিয়ে হয়েছে বেশ কিছু কাজ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ : কে. এন. এইচ. মোঃ সিরাজুল হক, মুসলিম সাহিত্য সমাজ : সমাজচিন্তা ও সাহিত্যকর্ম (১৯৮২)। এই তালিকায় আরও রয়েছে : মোঃ মোসলেম উদ্দীন জোয়ার্দার, সমকালীন মুসলিম চিন্তা চেতনার পটভূমিতে এয়াকুব আলী চৌধুরীর জীবন ও সাহিত্য সাধনা (১৯৯৮); মোঃ জামান খান, বিশ শতকের প্রথমার্ধের বাঙালি মুসলিম-মানস ও এস. ওয়াজেদ আলির সাহিত্যকর্ম (১৯৯৯) : মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কাজী আবদুল ওদুদের রচনা ও বাঙালি মুসলমান সমাজ (২০০২)। এমফিল — নিতাই কান্তি দাস, পাকিস্তান আন্দোলন ও বাংলা কবিতা (১৯৯০)।

 

ভাষাবিজ্ঞান ও লিপি বিষয়ক পিএইচডি

ভাষা ও লিপি বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে বাংলা বিভাগ থেকে। সিলেট অঞ্চলের উপভাষা নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে : এস. এম. গোলাম কাদির, সিলেটী নাগরী : লিপি, ভাষা ও সাহিত্য (১৯৮৫); নূর-ই-ইসলাম, সিলেটের উপভাষা : সাংগঠনিক বিশ্লেষণ (১৯৯৯)। অঞ্চলভিত্তিক উপভাষা নিয়ে আরেকটি কাজ : মোঃ নওশের আলী, যশোর অঞ্চলের উপভাষা (২০০৮)। সম্পূর্ণত ভাষাবিজ্ঞানও গবেষণার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে : মনোয়ারা হোসেন, প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা ভাষার শব্দের শ্রেণীবিচার ও প্রয়োগ বিশ্লেষণ (১৯৮৮); রাশিদা বেগম, বাংলা অনুসর্গের গঠন-প্রকৃতি ও বাক্যে অনুসর্গের ভূমিকা (১৯৯৩); এম এম রিজাউল ইসলাম, বাংলা কারক ও বিভক্তির ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (২০০২)। ভাষা-পরিকল্পনা নিয়ে কাজ : মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা : পর্যালোচনা ও প্রস্তাব (২০০৩); মোঃ আব্দুর রহিম, বাংলাদেশের ভাষা-পরিকল্পনা (২০০৩)। বাংলা বানানের ইতিহাস, বানান সংস্কারের বিভিন্ন পর্যায়, এর সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে পূর্ণাবয়ব একমাত্র গবেষণাকর্ম : তারিক মনজুর, বাংলা বানান সংস্কার : উদ্যোগ ও প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ (২০১৬)।

 

ভাষাবিজ্ঞান ও লিপি বিষয়ক এমফিল

অঞ্চলভিত্তিক উপভাষা নিয়ে গবেষণা : রোকসানা সুলতানা, ঢাকা জেলার নরসিংদী মহকুমার বীরপুর গ্রামের উপভাষা (১৯৭৯); মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, কুমারখালীর ভাষার সামাজিক স্তরবিন্যাস (২০০০)। বাংলা ভাষা ও লিপি নিয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে গবেষণা : দিল আফরোজ কাজী, বাংলা ভাষায় বিদেশী প্রভাব (১৯৯২); মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশে বাংলা ও অন্যান্য লিপির ব্যবহার-বৈচিত্র্য (২০০৬)।

 

জীবন ও কর্ম বিষয়ক পিএইচডি

ব্যক্তির জীবন, জীবনবোধ ও সামগ্রিক সৃজনকর্মের বিশ্লেষণধর্মী গবেষণাকর্ম বাংলা বিভাগের গবেষণার উল্লেখযোগ্য অংশ। এই ধরনের গবেষণার কোনো কোনোটিতে সূক্ষ্মতার অভাব থাকলেও আলোচ্য ব্যক্তির জীবন ও কর্ম সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পেতে গবেষণাকর্মগুলো প্রয়োজনীয়। এখানে ডিগ্রিপ্রাপ্তির বছরের ক্রমানুসারে গবেষণা-তথ্য উপস্থাপন করা হলো : মোঃ বদিউজ্জামান, ইসমাইল হোসেন সিরাজী : জীবন ও সাহিত্য (১৯৮১); এ. কে. এম. খায়রুল আলম, দীনবন্ধু মিত্রের সাহিত্যকর্ম (১৯৮৫); খন্দকার রিয়াজুল হক, মরমী কবি পাঞ্জু শাহ : জীবন ও কাব্য (১৯৮৭); মোহাম্মদ জীনাত আলী, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র জীবনদর্শন ও সাহিত্যকর্ম (১৯৯২); অনাথবন্ধু মল্লিক, অন্নদাশঙ্কর রায়ের সাহিত্য : দেশকাল ও ভাবসম্পদ (১৯৯৩); আবুল আহসান চৌধুরী, মীর মশাররফ হোসেনের শিল্পকর্ম ও সমাজচিন্তা (১৯৯৫); মোঃ হাবিবুর রহমান, সমকালীন পরিপ্রেক্ষিতে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ ও মোহাম্মদ গোলাম হোসেনের সাহিত্য-সাধনা ও চিন্তা-চেতনার মূল্যায়ন (১৯৯৬) ; ফাতেমা কাওসার, কায়কোবাদ : কবি ও কবিতা (১৯৯৬); মোঃ জয়নুদ্দীন, মুনীর চৌধুরীর সাহিত্যকর্ম (১৯৯৭); মোঃ জামান খান, বিশ শতকের প্রথমার্ধের বাঙালি মুসলিম-মানস ও এস. ওয়াজেদ আলীর সাহিত্যকর্ম (১৯৯৯); মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কাজী আবদুল ওদুদের রচনা ও বাঙালি মুসলমান সমাজ (২০০২); মোঃ মিজানুর রহমান, আবুল মনসুর আহমদের রচনায় সমাজচিন্তার স্বরূপ (২০০৫); মোঃ সাইফুল আলম, কাজী আবদুল ওদুদ: জীবন দর্শন ও সাহিত্য সাধনা (২০১০); মো: চেঙ্গীশ খান, আবুল মনসুর আহমদের সাহিত্যে সমাজ, জীবন ও রাজনীতি (২০১০); মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, শেখ হাবিবর রহমান সাহিত্যরত্ন ও তাঁর অবদান (২০১৩); মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, লোককবি রাধারমণ : জীবনদর্শন ও কবিতা (২০১৫); ইসরাত মেরিন, ভাই গিরিশচন্দ্র সেন : দেশকাল জীবন ও সাহিত্যকর্ম (২০১৮); শাহিনা আকতার, অদ্বৈত মল্লবর্মণের জীবনকথা ও সাহিত্যকর্ম (২০১৯)।

 

জীবন ও কর্ম বিষয়ক এমফিল

মাহবুবা সিদ্দিকা, সিকান্দার আবু জাফর : কবি ও নাট্যকার (১৯৭৯); গোপিকা রঞ্জন চক্রবর্ত্তী, ভবাপাগ্লার জীবন ও গান (১৯৯২); সামসুন নাহার, বেগম রোকেয়ার কর্মে ও সাহিত্যে নারীমুক্তির স্বপ্ন (১৯৯৯); মোঃ নাজমুল হক রহমানী, আবুল হুসেনের জীবন ও সাহিত্য (২০০১); মিলন কান্তি রায়, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত : জীবন ও কাব্য (২০০৯); উম্মে সালমা, মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম (২০০৯); সাবিনা আফজা হক, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন : চিন্তা ও কর্ম এবং উত্তরকালে তাঁর প্রভাব (২০১০); মোঃ মনিরুজ্জামান, বাংলা সাহিত্যে মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের জীবন-ভাবনা (২০১৩); মোঃ মনিরুজ্জামান, বাংলা সাহিত্যে মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের জীবন-ভাবনা (২০১৩); সালেহা সুলতানা, সুফিয়া কামালের জীবনদৃষ্টি ও সাহিত্যকর্ম (২০১৫)।

 

পত্র-পত্রিকায় সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্য-সমালোচনা বিষয়ক পিএইচডি

বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পত্র-পত্রিকা সবিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকাও নিজস্ব সাহিত্যরুচি বা সাহিত্যধারা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। এমন বিষয়ে গবেষণা হয়েছে : রঘুনাথ ভট্টাচার্য্য, সবুজ পত্র গোষ্ঠীর সাহিত্য ভাবনা (২০০৩); মো. আশরাফুর রহমান ভূঞা, দৈনিক ইত্তেফাক ও সংবাদ পত্রিকায় বিশ শতকের আশির দশকে সাহিত্যচর্চা : তুলনামূলক বিশ্লেষণ (২০১০)।

 

পত্র-পত্রিকায় সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্য-সমালোচনা বিষয়ক এমফিল

পত্র-পত্রিকায় সাহিত্যবিচার নিয়ে তিনটি এমফিল গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে : শিল্পী রানী ভদ্র, মাসিক ‘মাহে নও’ পত্রিকায় সাহিত্য সমালোচনা : ১৯৪৮-৫৮ (২০০১); মোঃ আশ্রাফুর রহমান ভূঞা, দৈনিক সংবাদের ‘সাহিত্য সাময়িকী’ : ‘৮০র দশকের সাহিত্যচর্চার স্বরূপ (২০০৫); আফরোজা বুলবুল, ‘বেগম’ পত্রিকায় প্রতিফলিত বাঙালি মুসলিম-নারীর সমাজ, সংস্কৃতি ও ভাষাচিন্তা (১৯৪৭-১৯৭০) (২০০৫)।

 

বিবিধ বিষয়ে পিএইচডি ও এমফিল

ওপরে উপস্থাপিত শ্রেণিবিন্যাসকৃত বিষয়ের বাইরেও বিচিত্র বিষয়ে গবেষণাকর্ম সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক সংকট, শিক্ষাব্যবস্থা, লিঙ্গসমতা ইত্যাদি বিবিধ বিষয়ে বেশ কিছু গবেষণাকর্ম সম্পন্ন হয়েছে : মালেকা বেগম, যৌতুক প্রথার সামাজিক রূপ ও বাংলা সাহিত্যে তার প্রতিফলন (২০০৪); নাসিমা বেগম, Gender Equity in Primary Education of Bangladesh (২০১০); মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলা ভাষায় শিক্ষাচিন্তার ক্রমবিকাশ : অক্ষয়কুমার দত্ত থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (২০১৮); লোপামুদ্রা মালেক, বাংলা ভাষায় জাপান-চর্চা (১৮৬৩-১৯৪৭) (২০১৮); মো. রাকিবুল ইসলাম, সাহিত্যের চলচ্চিত্রায়ণ : বাংলাদেশ (১৯৫৬১৯৮৫) (২০২০)।

 

বিবিধ বিষয়ে এমফিল

এ. কে. এম. নুরুল ইসলাম, বাংলা আত্মজীবনীতে সমাজ ও সংস্কৃতি (১৮০১-১৯১১) (১৯৮০); সুনীপা দেব, চীন ও রাশিয়া ভ্রমণ অবলম্বনে রচিত বাংলা সাহিত্য : ১৯৪৭-১৯৭১ (১৯৯৭); স্বপ্না দে, উনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যে ব্যঙ্গ রচনা (২০০০); এ. কে. এম. শামসুল আরেফিন, বাংলাদেশের সাহিত্যের ক্ষেত্রে বেসরকারী সংস্থা (এন.জি.ও) সমূহের কর্মকাণ্ড এবং তার ফলাফল (১৯৭২-১৯৯৫) (২০০১); রওশন আরা বেগম, বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির বিকাশ (১৮০১-১৯৪১) (২০০২); মুনিরা সুলতানা, বুদ্ধদেব বসুর সাহিত্যসমালোচনামূলক রচনা : মতাদর্শ ও গদ্যশৈলী (২০১৪); সুশান্ত কুমার সরকার, ঘাটু গানের সমাজতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট (২০১৮); ফারজানা আক্তার, শামসুর রাহমানের শিশুসাহিত্য : বিষয় ও প্রকরণ (২০১৮)।

 

বাংলাদেশের সাহিত্য বিষয়ক পিএইচডি

সুকুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের নাট্যচর্চা ও নাটকের ধারা (১৯৪৭-১৯৭৩) (১৯৮৬)

খালেদ মাসুকে রসুল, বাংলাদেশের লৌকিক উৎসব (১৯৮৬)
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশের ছোটগল্প : জীবন ও সমাজ (১৯৯৫)

রফিকউল্লাহ খান, বাংলাদেশের উপন্যাস : বিষয় ও শিল্পরূপ (১৯৯৫)
মুহম্মদ ইসরাইল খান, বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি ও সমাজের অগ্রগতিতে সাহিত্য পত্রিকার ভূমিকা (১৯৪৭-১৯৭১) (১৯৯৫)

সায়েদা বানু, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ছোটগল্পে বাস্তবতার স্বরূপ (১৯৭২-৮৮) (১৯৯৬)

দিলারা হাফিজ, বাংলাদেশের কবিতায় ব্যক্তি ও মানুষ (১৮৬৫-১৯৪৭) (১৯৯৮)
মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশের ছোটগল্পে মধ্যবিত্ত জীবনের রূপায়ণ (১৯৪০-৯০) (২০০১)
মোঃ নুরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশের কবিতায় লোকজ উপাদানের ব্যবহার (১৯৪৭-১৯৯০) (২০০২)

সৈয়দা খালেদা জাহান, বাংলাদেশের নাটকে রাজনীতি ও সমাজ সচেতনতা (১৯৫২-১৯৭২) (২০০২)
মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূইয়া, বাংলাদেশের কবিতায় লোকসংস্কৃতি (১৯৪৭-১৯৯৬) (২০০২)
চঞ্চল কুমার বোস, বাংলাদেশের ছোটগল্পের শিল্পরূপ (১৯৪৭-১৯৯৬) (২০০৩)
মোঃ আমিনুল ইসলাম সরকার, বাংলাদেশের পাঁচজন কবির কবিতায় চিত্রকল্পের ব্যবহার (২০০৫)
খোন্দকার শওকত হোসেন, বাংলাদেশের উপন্যাসে (১৯৪৭-১৯৭০) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রতিফলন (২০০৭)
মোহাম্মদ তাজুদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশের নদীভিত্তিক উপন্যাসে জীবনচিত্র (২০০৮)

মোঃ বায়তুল্লাহ্ কাদেরী, বাংলাদেশের ষাটের দশকের কবিতা : বিষয় ও প্রকরণ (২০০৮)
বিমান চন্দ্র বড়ুয়া, বাংলাদেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর লোকসংস্কৃতির স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য (২০০৮)
নীলিমা আফরিন জানু, বাংলাদেশের উপন্যাসে মনোবিশ্লেষণ (১৯৪৭-২০০০) (২০০৯)

সোহেলী নার্গিস, বাংলাদেশের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের রূপায়ণ ১৯৭১-২০০১ (২০০৯)

মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন, বাংলাদেশের কোচ জনগোষ্ঠীর সমাজ ও সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য (২০১০)

রওশন আরা বেগম, বাংলাদেশের মহিলা ঔপন্যাসিকদের উপন্যাসে সমাজচিত্র ও জীবনবোধ (১৯৭২-২০০০) (২০১১)

কে. এম. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশের কবিতা : উত্তরাধিকার ও নতুন অর্জন (উনিশ শ সাতচল্লিশ থেকে সমকাল পর্যন্ত) (২০১৩)

হামিদা বেগম, বাংলাদেশের উপন্যাসে সমুদ্র-উপকূলবর্তী জীবন ও জনপদ (২০১৩)

রওশন আরা, বাংলাদেশের কবিতায় স্বদেশচেতনার প্রকৃতি ও রূপান্তর (১৯৪৭-২০০০) (২০১৩)
শিরিন আক্তার সরকার, বাংলাদেশের ছোটগল্প : নারী-জীবনের রূপায়ণ (হাসান আজিজুল হক, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, সেলিনা হোসেন ও নাসরীন জাহান) (২০১৫)
সুরাইয়া গুলশান আরা, বাংলাদেশের উপন্যাসে নারী-পুরুষের সম্পর্কের রূপায়ণ (১৯৪৭-২০০০) (২০১৫)
মোঃ শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য : বিষয় ও ভাষারীতি (২০১৬)
মোঃ সাইদুর রহমান, বাংলাদেশের জাতিতাত্ত্বিক নাট্যকলা : মারমা, মনিপুরী ও গারো নাট্য-নিরীক্ষা (২০১৭)
চৌধুরী মোঃ তাশরিক-ই-হাবিব, বাংলাদেশের উপন্যাসে লোকজ উপাদানের ব্যবহার (২০১৭) মার্জিয়া আক্তার, বাংলাদেশের যাত্রা : বিবর্তনের রূপরেখা (২০১৭)
মোহাম্মদ কুদরত-ই-হুদা, ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিকাশ ও বাংলাদেশের কবিতা (১৯৬১-১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ) (২০১৮)
তৌহিদুল ইসলাম, বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের বাংলাদেশের কবি ও কবিতা (২০১৯) মো. রাকিবুল ইসলাম, সাহিত্যের চলচ্চিত্রায়ণ : বাংলাদেশ (১৯৫৬-১৯৮৫) (২০২০)।

 

বাংলাদেশের সাহিত্য বিষয়ক এমফিল

খন্দকার শওকত হোসেন, বাংলাদেশের উপন্যাস (১৯৪৭-৭০) : গ্রামীণ সমাজ (১৯৮৪)
মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, বাংলাদেশের আঞ্চলিক উপন্যাস (১৯৪৭-১৯৮৬) (১৯৯৩)
মোহাম্মদ গোলাম মাওলা, বাংলাদেশের উপন্যাসের শৈলীবিচার : ১৯৪৭-১৯৭১ (২০০০)
মোঃ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশের ছোটগল্পের বিষয় ও প্রকরণ (১৯৭১-১৯৯১) (২০০০)
রেহানা হোসেন আখতার, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নাটক (১৯৪৭-১৯৯০) (২০০০)
মোঃ আসাদুজ্জামান খান, বাংলাদেশের উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের রূপ ও শিল্পসাফল্য (২০০০)
সোহেলী নার্গিস, বাংলাদেশের উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের রূপায়ণ (২০০১)
এ. কে. এম. শামসুল আরেফিন, বাংলাদেশের সাহিত্যের ক্ষেত্রে বেসরকারী সংস্থা (এন.জি.ও) সমূহের কর্মকাণ্ড এবং তার ফলাফল (১৯৭২-১৯৯৫) (২০০১)
মোহাম্মদ তাজুদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশে নদীভিত্তিক উপন্যাস (২০০৩)
তাহমিনা বেগম, বাংলাদেশের উপন্যাসে নৈতিক বিবেচনা (১৯৭২-১৯৯২) (২০০৪)
আসমা জাহান, বাংলাদেশের উপন্যাসে শ্রেণী-চেতনার স্বরূপ (১৯৪৭-১৯৭১) (২০০৪)
মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশে বাংলা ও অন্যান্য লিপির ব্যবহার-বৈচিত্র্য (২০০৬)
শেখ মোঃ আমানুল্লাহ, বাংলাদেশের ছোটগল্পে শ্রেণীদ্বন্দ্ব (১৯৪৭-১৯৭১) (২০০৬)
মেহ্নাজ সাদ ফেরদৌস, বাংলাদেশের ছোটগল্পে গ্রামজীবন (১৯৭২-২০০০) (২০০৯)
মোছাঃ দীল আফরোজা খানম, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী সমাজের ভূমিকা (১৯৭২-২০০০) (২০১১) শরমিন নাহার চৌধুরী, বাংলাদেশের (১৯৭১-২০০০) মহিলা রচিত ছোটগল্পে নারীজীবনের স্বরূপ (২০১১)
রীতা বসু, বাংলাদেশের উপন্যাসে জনজীবন (১৯৪৭-১৯৭১) (২০১১)
এহছানি খানম, বাংলাদেশের মহিলা ঔপন্যাসিকের উপন্যাসে জীবনোপলব্ধি ও সমাজচেতনার স্বরূপ (১৯৭২-১৯৯৮) (২০১২) বিদ্যুৎ সরকার, বাংলাদেশের নাটকে নিম্ববর্গের জীবন (১৯৭২-২০০৭) (২০১৪)
মোঃ মিয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতিতে যাত্রাপালা (২০২০)।

 

শেষকথা

শতবর্ষের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে-কোনো বিভাগের চেয়ে অগ্রবর্তী। কিন্তু এখনও অনেক বিষয়ে গবেষণা হয়নি। প্রাচীন যুগের বাংলা সাহিত্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র এখনও বাংলা বিভাগের উচ্চতর গবেষণার আওতাভুক্ত হয়নি। মধ্যযুগের সাহিত্য নিয়ে গবেষণায় ক্রমাগত অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এ-ক্ষেত্রে এই ধরনের গবেষণায় আর্থিক প্রণোদনার অভাবও একটি কারণ হতে পারে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের কবিতার ওপর কোনো কাজ হয়নি।

 

এছাড়া উনিশ শতকের কবিতা, জীবনানন্দ দাশের কবিতা, বাংলাদেশের সত্তর-আশি-নব্বইয়ের দশকের কবিতার ওপর কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে সাতচল্লিশকেন্দ্রিক পটভূমিতে গবেষণা, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঔপন্যাসিক-ছোটগল্পকারদের কাজের ওপর গবেষণারও সম্ভাবনা আছে। প্রবন্ধ নিয়ে কাজের সংখ্যা বেশ কম। ভ্রমণসাহিত্য নিয়েও তেমন কাজ হয়নি। বিশ্বব্যাপী আলোচিত বিভিন্ন তত্ত্ব-মতবাদের ভিত্তিতে গবেষণার বিস্তর সুযোগ আছে। কিছু গবেষণা যেমন উচ্চমানের কাজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, তেমনি কিছু গবেষণার বিষয়ে গতানুগতিকতা বা দায়সারা কাজের অভিযোগ আছে। গবেষণা-পদ্ধতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলা বিভাগের কখনো কখনো গবেষকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ করা যায়। এ-সকল সীমাবদ্ধতার উল্লেখ সত্ত্বেও একথা বলা যায়, বাংলা বিভাগ উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। শতবর্ষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উচ্চতর গবেষণার এই বিপুল সম্ভার সেই অবদানের উজ্জ্বল স্মারক।

 

সহায়কপঞ্জি
আনিসুজ্জামান (২০১৮)। ‘হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও মুহম্মদ শহীদুল্লাহ : স্মরণ’, হরপ্রসাদ-শহীদুল্লাহ্ প্রথম স্মারক বক্তৃতা, ১ জুলাই, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
আবুল কাসেম ফজলুল হক (২০১৯)। ‘বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশ’, হরপ্রসাদ-শহীদুল্লাহ্ দ্বিতীয় স্মারক বক্তৃতা, ১৫ জুলাই, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
মুহম্মদ আবদুল হাই (সম্পাদিত) (২০২০)। ভাষা ও সাহিত্য সপ্তাহ ১৩৭০, বাংলা বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয়, জাগৃতি প্রকাশনী, ঢাকা
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (১৯৭৮)। বাংলা সাহিত্যে উচ্চতর গবেষণা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (২০১২)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা-বিভাগের ইতিহাস (১৯২১-২০০১), বিজয় প্রকাশ, ঢাকা ভীষ্মদেব চৌধুরী (২০০৪)। বাংলাদেশের সাহিত্যগবেষণা ও অন্যান্য, নবযুগ প্রকাশনী, ঢাকা
সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ (প্রকাশিত) (২০১৯)। শতবর্ষের পথে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা অ্যালামনাই পুনর্মিলনী, ঢাকা।

 

পড়ুন ।। প্রথম কিস্তি

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ : উচ্চতর গবেষণার রূপরেখা

3 মন্তব্যসমূহ

  1. লেখাটি পড়ে ঋদ্ধ হলাম। অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার
    বিষয় ও পরিধি সম্পর্কে জানা গেল। যা থেকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় অন্তত তাদের জার্নালের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের মান নিয়ে তুল্য আলোচনা করতে পারবেন। তাদের ঘাটতির জায়গাটুকু সম্পর্কে অবগত হবেন।

  2. এসব তথ্য উল্লিখিত সহায়ক গ্রন্থসমূহ থেকে মোটামুটি পাওয়া যায়। লেখকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ নিয়ে কৌতূহল থাকলো। কয়েকটি গবেষণা সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে – ‘গতানুগতিক’। কী অর্থে এ মন্তব্য, পরিষ্কার নয়। তা ছাড়া ভূমিকায় এ ধরনের মন্তব্য লেখক সম্পর্কে উচ্চ ধারণা সৃষ্টির প্রতিবন্ধক। তবুও বইটি সংগ্রহের প্রতীক্ষায় রইলাম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here