বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা

সূত্র : উইকিপিডিয়া

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে আবশ্যিক ১০০ নম্বরের বাংলা পড়তে হয়। ভালো কথা। কিন্তু এর উদ্দেশ্য কী, লক্ষ্য পূরণের উপায় কী, জানি না। আরও প্রশ্ন আছে। তবে যেটুকু দেখতে পাই, সেটুকু নিয়ে বলি।

 

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরকে এখন আবশ্যিকভাবে কম্পিউটার পড়তে হয়। যখন এটি আবশ্যিক ছিল না, তখন কোনো কোনো বেসরকারি স্কুলে দেখেছি, কম্পিউটার কোর্স করানো হচ্ছে। স্কুলগুলোর উদ্দেশ্য ছিল — শিক্ষার্থীদেরকে কম্পিউটারে দক্ষ করে এগিয়ে রাখা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিশ্চয় বাংলার কোর্স করিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা ভাষায় দক্ষ করে তুলতে চাইছে না। ইউজিসির বাধ্যবাধকতা থেকে বাংলা কোর্স পড়াতে হচ্ছে। ইউজিসি কোন উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলা কোর্স যুক্ত করেছে, অনুমান করা যাক।

 

এমন হতে পারে, সরকার চায়, কাজকর্মে বাংলা ভাষার প্রয়োগ আরও বাড়ুক। আবার এমন হতে পারে, এই কোর্সের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বাংলা সাহিত্যের গৌরব সম্পর্কে জানানো। আমার অনুমানে আসেনি, এমন কোনো উদ্দেশ্য থেকেও বাংলার কোর্সটি যুক্ত করা হতে পারে।

 

আমার প্রথম অনুমান ঠিক নয়। কারণ, কাজেকর্মে বাংলার প্রয়োগ বাড়াতে এই কোর্সের উপযোগিতা দেখি না। কোর্সে ভাষার প্রায়োগিক বা ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর কিছু নেই। আমার দ্বিতীয় অনুমানও ঠিক নয়। কারণ, এই সিলেবাস দিয়ে আর যাই হোক, সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্যের গৌরব উপলব্ধি করানো সম্ভব নয়।

 

সিলেবাসে বাংলা ভাষা অংশে আছে স্বরধ্বনি, ব্যঞ্জনধ্বনি আর বানান-উচ্চারণের কয়েকটি সূত্র। কয়েকটি বিষয়-নির্দিষ্ট রচনাও আছে। এ থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষার প্রয়োগে কতটুকু কার্যকরীভাবে সফল হবে, সেই প্রশ্ন রয়েছে। বাংলা সাহিত্য অংশে কয়েকটি গল্প, কবিতা আর প্রবন্ধ আছে। নিশ্চয় তাদেরকে এসব গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তরও লিখতে হয়। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি গদ্য-কবিতা দিয়ে সাহিত্যের কোনো লক্ষ্যই পূরণ হবে না। তাই বলছি, সিলেবাসে পরিবর্তন আনতে হবে।

বর্তমানে কী কী আছে, ভুলে যান। নতুন সিলেবাসে কী কী থাকতে পারে, এর একটি তালিকা তৈরি করি।

বর্তমানে কী কী আছে, ভুলে যান। নতুন সিলেবাসে কী কী থাকতে পারে, এর একটি তালিকা তৈরি করি। থাকতে পারে বাংলা সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ধারণা পাবে, এক হাজার বছরে কোন কোন ধারার সাহিত্যের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে বাংলা ভাষা। সাহিত্যের বিভিন্ন রূপ ও রীতি সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। এক্ষেত্রে আসতে পারে ছোটগল্পের পরিচয়, উপন্যাসের শ্রেণিকরণ, মহাকাব্য, ট্রাজেডি ইত্যাদি আঙ্গিকের বৈশিষ্ট্য ও পরিচয়। প্রধান প্রধান সাহিত্যিক মতবাদ, যেমন : ক্লাসিসিজম, রোমান্টিসিজম, মার্কসসিজম, ফেমিনিজমের পরিচয় শিক্ষার্থীদেরকে দিতে হবে। সিলেবাসে কবিতা-সংশ্লিষ্ট হয়ে ভারতীয় পুরাণ-প্রসঙ্গও থাকতে পারে সংক্ষিপ্ত আকারে।

সূত্র : ইশিখন ডট কম

সিলেবাসে থাকবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ছোটগল্প। থাকবে মধ্যযুগের কোনো কাব্যের অংশ এবং কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কবিতা। থাকতে হবে একটি ছোট নাটক; একটি বা দুটি প্রবন্ধ। কোনো উপন্যাস রাখার দরকার নেই; কারণ অল্প সময়ের কোর্সে উপন্যাস শেষ করা যাবে না।

 

বাংলার ব্যবহারিক অনুশীলন হিসেবে বাংলা শব্দগঠনের নিয়ম শেখাতে হবে। এক্ষেত্রে মুক্ত রূপমূল ও বদ্ধ রূপমূলের ধারণা থেকে সমাস, উপসর্গ ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে শব্দগঠনের আলোচনা থাকবে। উদাহরণ নিতে হবে সিলেবাসের গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ থেকে। বাংলা বানান ও বাক্যশুদ্ধির আলোচনা থাকতে পারে — তবে এগুলো সূত্রবদ্ধভাবে পরীক্ষায় দিলে হবে না। এক বা একাধিক অনুচ্ছেদে ভুল বানান ও ভুল বাক্য থাকবে। সিলেবাসে রাখতে হবে ভাবকে সম্প্রসারিত করা এবং সংক্ষিপ্ত করার বিষয়। শেখানোর পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে মুখস্থবিদ্যায় গুটিকয় নমুনা শিখে পার পাওয়া না যায়।

 

গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে অভিজ্ঞতামূলক শিখনের মধ্য দিয়ে নিতে হবে শিক্ষার্থীদেরকে। তবে প্রস্তাবিত এই সিলেবাসও ব্যর্থ হবে, যদি প্রশ্ন করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন না আনা হয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here